মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ জাকির হোসেন: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গুলিশাখালী সিনিয়র ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদ্রাসার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী চলতি বছরের ২৯ জুন অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পরও অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকার জন্য তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
তারা জানান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ২ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারীকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই চিঠির পর তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাবেক অধ্যক্ষ লোকজন নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রোববার মাদ্রাসার মূল ফটক ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়া হয়। তবে মাদ্রাসার অফিস কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলমান ছিল।
পরে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন এবং সাবেক অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ মাসুদ, প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ফজলুর রহমান খান এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত দাবি করে তা বাতিলের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, “গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সার্বিক বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে।”